মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
মিরপুরে টানা তিনদিন ধরে চলছে সংঘর্ষ: জনমনে আতংক ইনানীতে নলকূপ খননে গ্যাস উদগীরণ, মজুত নিরূপণে জরিপ দ্বীপ প্রস্তুত: আজ সেন্টমার্টিন খুললেও যায়নি কোন জাহাজ: চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় এইচএসসি পরীক্ষায় সাংবাদিক আজিজের মেয়ে নিশুর গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলও বেরিয়ে আসছে, আরও ১৫ দিন জ্বলবে আগুন-বাপেক্স ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইনানীতে ২ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপ থেকে ওঠা গ্যাসের আগুন: ২২ কিলোমিটার এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক আবদুল আজিজের পিতার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় নির্গমন গ্যাসের আগুন: আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ছেলের হাতে বাবা খুন

মানুষের সঙ্গে বন্য প্রাণীর দ্বন্দ্ব বাড়ছে, নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির তাগিদ

জিকির উল্লাহ জিকু:

আজ বিশ্ব হাতি দিবস। আবাসস্থল ধ্বংস ও করিডোর বন্ধসহ নানা কারণে কক্সবাজার ও পার্বত্য বনাঞ্চলে সংকটাপন্ন এশিয়ান বন্য হাতি। এ কারণে দিবসটি উপলক্ষে হাতির জন্য জরুরি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবাসস্থল ধ্বংস ও করিডোর বন্ধসহ নানা কারণে সংকটাপন্ন বন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের বিশাল বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর থেকে হাতির খাদ্য ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মানুষের সঙ্গে এই বন্য প্রাণীর দ্বন্দ্ব বাড়ছে।

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও হাতি দিবস পালিত হলেও এই প্রাণী রক্ষায় কার্যত কোনও উদ্যোগ নেই। প্রতিনিয়ত হাতির আবাসস্থল ধ্বংস ও করিডোর বন্ধসহ নানা কারণে কক্সবাজার ও পার্বত্য বনাঞ্চলে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে বন্যহাতি। বিশাল বনাঞ্চলজুড়ে রোহিঙ্গা বসতি গড়ে ওঠায় ঘুমধুম হাতির করিডোর সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তাই দেশে যে অবশিষ্টি এশিয়ান হাতি রয়েছে, তাদের রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য নানাভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে ‘আইইউসিএন’ আয়োজিত এক সেমিনারে এই তাগিদ দেয়া হয়।

হাতি নিয়ে কাজ করছে ‘আইইউসিএন বাংলাদেশ’। এই প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ঘুমধুম আন্তর্জাতিক হাতির করিডোর বন্ধ রয়েছে। ফলে হাতি চলাচলের একটি বড় বাঁধা রয়েছে। সুতরাং কক্সবাজার বনাঞ্চল এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫টি বন্য হাতির খাদ্যভাবসহ নানা কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।’

কক্সবাজার বনবিভাগের দক্ষিণ বিভাগীয় কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, ‘কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় ৭০ থেকে ৮০টি হাতি রয়েছে। এসব হাতি রোহিঙ্গাদের কারণে চলাচলে বাধা পাচ্ছে। ফলে মানুষ আর হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এছাড়া বনাঞ্চলের নানা স্থাপনা, জবর দখল, রাস্তাঘাট তৈরি হওয়ায় আবাসস্থল নষ্ট হয়ে গেছে। তাই, হাতির আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আবাসস্থল তৈরী করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজারে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল, খাদ্য ও করিডোর তৈরির কাজ চলছে। এর ফলে গত এক বছর ১৬টি হাতির বাচ্চা প্রসব হয়েছে কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন বনাঞ্চলে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, ‘২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মানুষ ও হাতির সংঘর্ষে ১২ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। সংঘর্ষ প্রশমিত করার জন্য আইইউসিএন বাংলাদেশ, ইউএনএইচসিআর’সহ বেশকিছু সংগঠনের সমন্বয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশেপাশে ‘‘জীব বৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য মানবিক-সংরক্ষণ কর্ম’’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’

২০১৭ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আবাসিক হাতির বিচরণ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। দেশের বনাঞ্চলে আবাসিক বন্যহাতি আছে ২৬৮টি। এছাড়া দেশের সীমান্তবর্তী পাঁচটি বনাঞ্চলে ৯৩ থেকে ১০৭টি পরিযায়ী হাতির বিচরণ করে।

গবেষণায় ৯টি বিভাগীয় বন অফিসের আওতায় হাতি চলাচলের ১১টি রুট চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৫১৮ কিলোমিটার। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে হাতির বিচরণের পথ দ্রুত কমে আসছে। গত ছয় বছরে বন্ধ হয়ে গেছে হাতি চলাচলের তিনটি করিডোর। এসব কারণে নিয়মিত চলাচলের পথ ব্যবহার করতে পারছে না হাতি। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পাহাড়ি বনাঞ্চলে ছিল বেশকিছু হাতি চলাচলের করিডোর। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নষ্ট হয় এসব করিডোর।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের ঘুমধুমের সীমান্তবর্তী এলাকায় হাতি চলাচলের ১১টি করিডোর রয়েছে। এসব করিডোরের বেশিরভাগেই এখন গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়। চলাচলের পথসহ হাতির অভয়ারণ্য রক্ষার পাশাপাশি জীববৈচিত্র সংরক্ষণে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন অনেকেই।

ভয়েস /জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION